প্রতিষ্ঠানগুলো হলো এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড। এর মধ্যে আভিভা ফাইন্যান্স ব্যতীত বাকি তিনটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। গতকাল থেকে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এ তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুসারে, ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬-এর আওতায় প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিয়োগ বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে রেজল্যুশন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোয় প্রশাসক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রশাসকদের মধ্যে আছেন আভিভা ফাইন্যান্সে মো. আলাউদ্দিন হোসেন, এফএএস ফাইন্যান্সে আবু সামা মো. আতাউর রহমান, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন ও ফারইস্ট ফাইন্যান্সে মো. সাদেকুর রহমান। প্রত্যেক প্রশাসকের সঙ্গে দুজন করে সহকারী প্রশাসকও থাকবেন।
অনিয়ম ও জালিয়াতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে আমানত ফেরত দিতে না পারা এসব প্রতিষ্ঠানের অবসায়নের চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আমানতকারীদের প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দিতে সরকার ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা দিচ্ছে। পরে খেলাপি ঋণ আদায় ও সম্পদ বিক্রি থেকে অর্থ পাওয়া গেলে বাকি অর্থ পর্যায়ক্রমে আনুপাতিক হারে ফেরত দেয়া হবে।
এফএএস ফাইন্যান্স: আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে এফএএস ফাইন্যান্সের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১০ টাকা ৩৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৯ টাকা ৭৮ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ১৫৮ টাকা ৩৯ পয়সা।
২০০৮ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এফএএস ফাইন্যান্সের অনুমোদিত মূলধন ২১০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৪৯ কোটি ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা। পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ২ হাজার ১৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৪ কোটি ৯০ লাখ ৭৭ হাজার ৩৬৪। এর ১৩ দশমিক ২০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৭ দশমিক ৫৮ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৭৯ দশমিক ২২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল লিজিং: আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৬ টাকা ৭১ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ২ টাকা ৮৬ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট দায় দাঁড়িয়েছে ২১৯ টাকা ৩ পয়সায়।
২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের অনুমোদিত মূলধন ৩০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ২২১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ৪ হাজার ৯৩১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ২২ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার ২৪৬। এর ৪১ দশমিক ৫৫ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৪ দশমিক শূন্য ৩ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪৪ দশমিক ৪২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
ফারইস্ট ফাইন্যান্স: আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩ টাকা ৭৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৩ টাকা ৩৬ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ৫৪ টাকা ২৩ পয়সায়।
২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফারইস্ট ফাইন্যান্সের অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৬৪ কোটি ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ৯৯২ কোটি ১৯ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৬ কোটি ৪০ লাখ ৬৩ হাজার ৩৩০। এর ৩৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৪ দশমিক ৭৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৪৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।